
সম্পাদকীয় । Katha24.com
পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের জীবনে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। ‘লাইলাতুল বারাআত’—অর্থাৎ মুক্তি ও ক্ষমার রাত—হিসেবে পরিচিত এই রাত আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে। ব্যস্ততা, ভোগবাদ আর আত্মকেন্দ্রিক জীবনের ভিড়ে দাঁড়িয়ে এই রাত যেন মানুষকে নিজের ভেতরের মানুষটির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এই রাতে মহান আল্লাহ বিশেষভাবে তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া ও ক্ষমার দুয়ার খুলে দেন। যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে সৎ পথে চলার অঙ্গীকার করে—তাদের জন্য এই রাত এক অপার সম্ভাবনার নাম। ক্ষমা লাভের এই সুযোগ কোনো আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; বরং এটি আত্মসমালোচনা ও আত্মসংযমের পরীক্ষার রাত।
শবে বরাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইবাদত মানে লোকদেখানো আচার নয়। আলোঝলমলে আয়োজন, সামাজিক প্রচার কিংবা বাহ্যিক প্রদর্শন নয়—বরং নীরব অশ্রু, নিঃশব্দ তওবা আর একাগ্রচিত্তে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়াই এই রাতের মূল শিক্ষা। নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং দোয়ার মাধ্যমে বান্দা যখন রবের দরবারে দাঁড়ায়, তখনই এই রাতের প্রকৃত মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়।
ব্যক্তিগত মুক্তির পাশাপাশি শবে বরাত সামাজিক ও জাতীয় কল্যাণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশ, সমাজ ও মানবতার জন্য দোয়া করা, অন্যায়-অবিচারের অবসান কামনা করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের সংকল্প নেওয়াও এই রাতের শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। আত্মশুদ্ধি যদি ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলিত না হয়, তবে ইবাদতের সুফলও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
এই মহিমান্বিত রাতে আসুন, আমরা নিজেদের ভুলের দায় স্বীকার করি, অহংকার ও হিংসা পরিহার করি এবং আল্লাহর রহমতের আশায় তাঁর দরবারে ফিরে যাই। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ—সবখানে যেন এই রাতের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবার গুনাহ মাফ করুন, জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত নাজিল করুন।
আমিন
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।